মোবাইল ভিওআইপি ব্যবসা শুরু করবেন যেভাবে

9cf0fc555192be6457d29fc831748ccc

চলমান জনপ্রিয়তার হাত ধরে বছর চারেকের মাঝেই আরও তিন গুণ বিস্তৃত হবে মোবাইল ভিওআইপি ব্যবসা। শুধু ব্যবহারকারীই নয়, এই খাতে প্রতিদিন বাড়ছে ব্যবসায় আগ্রহীর সংখ্যাও। এসব উদ্যোগকে ফলপ্রসূ করে লাভজনক ব্যবসায় পরিণত করতে চাই সঠিক দিকনির্দেশনা।

স্বাধীন ব্যবসা হিসেবে ভিওআইপি বেছে নিতে ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত হারে মুনাফা অর্জন করতে বিপণন ও বিক্রয় ছাড়াও প্রয়োজন অবকাঠামোগত উন্নয়ন। মোবাইল ভিওআইপি ব্যবসার এসব খুঁটিনাটিসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপসমূহ এখানে তুলে ধরা হলো।

ধাপ ১: হার্ড ও সফটওয়্যারের সমন্বয়ে অবকাঠামো প্রস্তুত করা

বিলিংসহ সফটসুইচ– সফটসুইচ হল ভিওআইপি ব্যবসার প্রাণকেন্দ্র। এটি নিয়ন্ত্রণ করে প্রি কিংবা পোস্টপেইড সকল গ্রাহকের লেনদেন, ইনভয়েস, কল রেকর্ড, বিল ও রিপোর্ট। একই সময়ে ঠিক কতগুলো কল ব্যবস্থাপনা করা যায় তার উপর ভিত্তি করে সফটসুইচ বিভিন্ন মানের হয়ে থাকে, যেমন কোনো সুইচ একই সময়ে ১০০০ কনকারেন্ট কল নিয়ন্ত্রণ করতে পারে আবার কোনোটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে ৪০০টি। কনকারেন্ট কলের পাশাপাশি অন্যান্য উল্লেখযোগ্য বিষয়সমূহ হচ্ছে নিরাপত্তা, ব্যবহারবান্ধব, কল কানেকশনের দক্ষতা, স্থিতিশীলতা, কর্মপরিধি ও কল রাউটিং মেকানিজম ইত্যাদি। সাধারণত, সফটসুইচ বিলিং সেবাসহ পাওয়া যায়। বিলিং যুক্ত না থাকলে আলাদা করে আবার বিনিয়োগ করতে হয় বলে বিলিংসহ সফটসুইচ ব্যবহার করাই শ্রেয়।

ব্যান্ডউইডথ অপটিমাইজেশন ও টানেলিং সফটওয়্যার – গ্রাহকের ইন্টারনেটের গতি বা সেবার মান ভালো না হলেও নিরবিচ্ছিন্ন সেবা পেতে ব্যান্ডউইডথ অপটিমাইজেশন ও টানেলিং সফটওয়্যার আবশ্যক। এছাড়াও, ফায়ারওয়াল বা কোনো স্থানে নিষেধাজ্ঞা থাকলে তা উহ্য করে সেবা পেতে এটি সাহায্য করে বলে ভিওআইপি সার্ভিস প্রোভাইডারদের জন্য এর গুরুত্ব অপরিসীম।

সার্ভার সাইডে ব্যান্ডউইডথ অপটিমাইজেশন ও টানেলিং সফটওয়্যার ইন্সটল করা থাকলে গ্রাহক পান সর্বাধিক মানসম্পন্ন নিরবিচ্ছিন্ন ভিওআইপি অভিজ্ঞতা।

সার্ভার ও হোস্টিং – অব্যাহতভাবে মানসম্পন্ন সেবা দিতে কার্যকর ভূমিকা রাখে সার্ভার ও হোস্টিং। এন্টারপ্রাইজ মানের সার্ভারের জন্য ইন্টারনেট ডাটা সেন্টারে (আইডিসি) হোস্টকৃত এই সমাধান গ্রাহকদের দেয় ২৪*৭ উপযুক্ত ব্যান্ডউইডথ ও পাওয়ার/এয়ার-কন্ডিশনিং। সর্বাধুনিক এই প্রযুক্তি ব্যবহারে আপনার সার্ভিস কখনোই ডাউন হয় না।

বিশ্বের যে কোনো জায়গা থেকেই আইডিসিতে সার্ভার/ব্যান্ডউইডথ লিজ নেয়া যায়। এর মান ও আইডিসির অবস্থান সাধারণত নির্ধারন করা হয় আপনি কি মানের এবং কোন মার্কেটের জন্য সেবা নিতে চাচ্ছেন তার উপর।

ধাপ ২: মোবাইল ভিওআইপি অ্যাপ্লিকেশন

আপনি যদি আপনার আশেপাশের মানুষদের কাছে ভিওআইপি সেবা বিক্রি করতে চান, তাহলে তাদের কল করার অ্যাপ্লিকেশন দিতে হবে। পুরোদমে ব্যবসা করার জন্য আপনার যেসব পণ্য ও সেবা প্রয়োজন হবে তা এখানে তুলে ধরা হলো।

মোবাইল ডায়ালার – এটি একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, ভিওআইপি কল করার জন্য আপনার গ্রাহকদের এটি ডাউনলোড করতে হবে। এই খাতে অনেক সেবাদাতা রয়েছেন, এমন কোনো প্রতিষ্ঠান বেছে নিন যা আপনাকে ব্র্যান্ডিং সুবিধা দেবেন। এর ফলে ডায়ালারে আপনার প্রতিষ্ঠানের নাম থাকায় গ্রাহকের যেমন আস্থা বাড়বে ঠিক তেমনি আপনারও প্রচার হবে।

এছাড়াও, সার্বক্ষণিক নিরবিচ্ছিন্ন সেবা দিতে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন হতে হবে মানসম্পন্ন, ব্যবহারবান্ধব, স্থিতিশীল ও কথা স্পষ্ট শোনা যায় এমন। লক্ষ্য রাখতে হবে ডায়ালারের ইন্টারফেস যেন সহজ ও সর্ববোধগম্য হয় যেন যে কেউ সহজেই এর বিভিন্ন ফাংশন ও সেবা বুঝতে পারে।

পিসি ডায়ালার (পিসি থেকেই সরাসরি কল করার সফটওয়্যার) – যেহেতু অনেক গ্রাহকই চায় সরাসরি তাঁর ডেস্কটপ বা ল্যাপটপ থেকে কল করার সুবিধা, তাই এই সময়ে এর প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। এই সেবা পেতে গ্রাহককে আগে নির্ধারিত সফটওয়্যারটি ডাউনলোড করে নিতে হবে। মোবাইল ডায়ালারের মতো পিসি ডায়ালারেও উপরোক্ত বিষয়সমূহের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে।

কলিং কার্ড – যাদের মোবাইল বা কম্পিউটার কোনোকিছুতেই ইন্টারনেট সংযোগ নেই তাঁদের জন্য ভিওআইপি সেবা উপভোগের দারুণ মাধ্যম কলিং কার্ড। আপনার গ্রাহকদের এই সেবা দেয়ার জন্য আপনার সফটসুইচ কলিং কার্ড সাপোর্ট করে কি না এবং এর সাথে ডিআইডি (ডিরেক্ট ইনওয়ার্ড ডায়ালিং) ও লোকাল টেলিফোন নম্বর কনফিগার করা আছে কি না – দেখে নিতে হবে।

ডিআইডিও এক ধরণের লোকাল নম্বর যেখানে ডায়াল করলে আইভিআর থেকে স্বাগত জানিয়ে গ্রাহকের কাঙ্ক্ষিত নম্বরে যোগাযোগ ঘটিয়ে দেয়া হয়।

কল শপ – যদি রিটেইল সেবা দেয়ার কথা ভেবে থাকেন তবে আপনার জন্য উপযুক্ত মাধ্যম কল শপ। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এই সেবা দেয়া হয়, যেখানে বসে ক্রেতারা কম খরচে দূরবর্তী নম্বরে কথা বলতে পারেন। এই ফিচার ব্যবহার করে একই সময়ে অনেক ব্যবহারকারী নিয়ন্ত্রণ, পিসি বা মোবাইলের কল সনাক্ত ও বিলিংসহ যাবতীয় ব্যবস্থাপনা কার্যাদি সম্পন্ন করা যায়।

আইটেল সুইচ, রিভ সিস্টেমস উদ্ভাবিত সর্বাধুনিক এ সফটসুইচ রিটেইলাররা তাঁদের কল শপ পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় বিশ্বের সর্বত্র ব্যবহার করছেন।

ধাপ ৩: ক্রেডিট কার্ড পেমেন্ট গেটওয়েসহ আপনার নিজের ওয়েব সাইট

ভিওআইপি ব্যবসা আপনি যেখানে বসেই করুন না কেন, আপনার গ্রাহক আসবে বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে। আর ভিনদেশী এবং ভাষী সব গ্রাহককে মানসম্পন্ন সেবা দিতে শুরু থেকেই আপনার প্রয়োজন হবে সম্পূর্ণ কার্যকরি একটি ওয়েবসাইট যা কি না ক্রেডিট কার্ড ও পেপাল প্রভৃতি পেমেন্ট গেটওয়ে সাপোর্ট করে।

ওয়েবসাইট থাকার ফলে একদিকে যেমন আপনার ব্যবসায়ের প্রসার হবে ঠিক তেমনি গ্রাহকদের সুবিধা হবে নিয়মিত আপনার সার্ভিস চার্জ প্রদান করতে ও সার্বক্ষণিক আপনার সঙ্গে যুক্ত থাকতে।

ধাপ ৪: টার্মিনেটিং ক্যারিয়ারে আন্তঃসংযোগ

রিটেইল কিংবা হোলসেল – উভয় ক্ষেত্রেই গ্রাহকদের কল টার্মিনেট করার জন্য বেশ কয়েকটি ক্যারিয়ারের সাথে আন্তঃসংযোগ থাকা উচিত। এর ফলে স্থানভেদে ক্যারিয়ার বেছে নেয়ার সুযোগের পাশাপাশি থাকে উপযুক্ত মূল্য বেছে নেয়ার স্বাধীনতা। উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি ইউএসএতে কল টার্মিনেট করার হয় তবে বিভিন্ন ক্যারিয়ারের দাম ও মান দেখে বেছে নিতে পারবেন আপনার গ্রাহকের হন্য আদর্শ মাধ্যমটি। এসব ক্যারিয়ার সাধারণত স্থানভেদে চার্জ অফার করে – যেমন, ইউএসডি/মিনিট। হয়তো দেখবেন ইউএসএ’র জন্য তাঁদের রেট ০.০০৮ ইউএসডি – যার মানে তাদের নেটওয়ার্কে একটি কলের এক মিনিটের টার্মিনেশন চার্জ ০.০০৮ ইউএস ডলার।

মনে রাখবেন, টার্মিনেটিং খরচ এই খাতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনশীল প্রভাবক। তাই ক্যারিয়ার বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সার্বিক বিবেচনা ও দায়িত্বশীলতার সাথে তা পরিচালনা করতে হয়।

ধাপ ৫: ক্রেতা খুঁজে বের করা

আর সব ব্যবসার মতোই অবকাঠামো ও প্রাথমিক ধাপ শেষে এখানে আপনাকে খুঁজে বের করতে হবে ক্রেতা তথা গ্রাহক। রিটেইল কিংবা হোলসেল ভিওআইপি যে ব্যবসাতেই যোগ দিন না কেন প্রতিযোগিতামূলক রেট ও ভাল মানের সার্ভিস অফার করে ক্রেতা খুঁজে বের করা ভিওআইপি সেবাদাতাদের জন্য আবশ্যক।

সেবার ক্ষেত্রে দু’টি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ: অবকাঠামো ও টার্মিনেটিং ক্যারিয়ারের মান। তাই উভয় ক্ষেত্রেই যথাযথ সাবধানতা ও প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই আবশ্যক।

ধাপ ৬: যথাযথ গ্রাহকসেবা

অবকাঠামো তৈরি ও গ্রাহক খুঁজে বের করার মাঝেই কিন্তু ভিওআইপি সেবা সীমাবদ্ধ নয়। গ্রাহক আপনার সেবা নেয়া শুরু করলে তাঁদের সমস্যা কিংবা জিজ্ঞাসার সমাধান, নতুন পণ্য বা সেবা সম্পর্কে জানানো তথা গ্রাহক সেবা প্রদান করতে হবে। আপনি যদি চান বিশ্বের বিভিন্ন স্থানের গ্রাহক আপনার সেবা গ্রহণ করুক তবে আপনাকেও ২৪*৭ যথাযথ গ্রাহকসেবার ব্যবস্থা রাখতে হবে। সেবাদাতাদের হয়ে রিভ সিস্টেমস গ্রাহকদের জন্য দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা গ্রাহকসেবা দিয়ে থাকে। অভিজ্ঞ ও দক্ষ সাপোর্ট ইঞ্জিনিয়ারদের সমন্বয়ে গঠিত রিভের গ্রাহকসেবা দল নিবেদিত পোর্টালের সাহায্যে ট্রাবল টিকেটিং ও লাইভ চ্যাটের সাহায্যে এই সেবা দিয়ে থাকে।